সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩
উপলব্ধি ১
আবারো
সপ্ন দেখার স্পর্ধা করতে পারলাম যখন দেখলাম অনুজপ্রতিম বিতার্কিকরা মেধা
আর মননের আলোয় সৃষ্টিশীলতার প্রাচুর্যে ভরপুর। অনেকবছর পর ২৮সেপ্টেম্বর
সন্ধায় মুক্তমঞ্চের হাজারো দর্শকের ভিড় আরেকবার প্রমাণ করেছে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের রুচিশীল সাংস্কৃতিক চেতনা।বিতার্কিকদের অসাধারণ যুক্তির
বুননে গড়া সৃজনের বার্তা শুনলাম।
অগ্রজ বিতার্কিক, সতীর্থ আর অনুজ
তার্কিকদের মিলন মেলায় খুঁজে পেলাম আমার স্মৃতির ভেলায় ভাসতে থাকা ফেলে
আসা বিতার্কিক সত্ত্বা। বুঝলাম, সময় বেড়ে যাচ্ছে, মহাকাল অনেক কিছুর
পরিবর্তনের সাক্ষী হলেও সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের অনাবিল ভ্রাতৃত্ব আরও বেশী
সুদৃঢ় হয়েছে। দেখলাম অটুট রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাংগঠনিক
সম্প্রীতি। আমি এই শুদ্ধ চেতনার সহচর হয়ে আজীবন দাসত্ব করতে চাই মননের,
মেধার।
স্কুল কলেজের বিতার্কিকদের স্পৃহা ওদের চেতনাকে করবে
পরিবর্তনের অঙ্গীকারে ক্ষুরধার। এই প্রত্যাশা।আয়োজনে ক্ষুদ্র অনাকাঙ্ক্ষিত
কিছু ভুল থাকতে পারে তবে চেতনার বিনির্মাণে এই আয়োজনের প্রয়াস অহংকার করার
মতো। তার পরেও আয়োজনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটিতে কেউ মনঃকষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
স্বপ্ন দেখার স্পর্ধায় আমার চেতনা আজ অনির্বাণ, যুক্তি আমার শক্তি,
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন আমার স্বপ্নিল চেতনার
সূতিকাগার।
বিতর্কের জয় হোক, চিরঞ্জীব থাকুক জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন। জয় বাংলা।
উপলব্ধি
" তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে"...ঘৃণ্যের বিনাশ হবেই। জাগবে শুভ্র সত্য।
ঝড় যতই আসুক, বিতর্কের প্রসারে, সমৃদ্ধিতে, বিতর্ক আন্দোলনকে শৈল্পিক
রূপদানে, মেধার বিনির্মাণে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে সব সময় যেই
সংগঠনটি আমাকে আমাদেরকে প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে তা জাহাঙ্গীরনগর
ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন। কিছু প্রতিক্রিয়াশীল দালাল যারা হয়তো
কোননা কোনো ভাবে বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়ে বিতর্ককে ভাঙ্গিয়ে খাচ্ছে তাদের
নির্লজ্জ স্বার্থবাদী বীভৎসতা আর সাম্প্রদায়িক মানসিকতা আমাদের গতিকে কখনো
রোধ করতে পারবে না।
আমাদের পূর্বসূরিরা যেভাবে এই অপশক্তিকে বিনাশ
করেছে, আমরা যেভাবে এই কুৎসিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে বমন করেছি, আমাদের
উত্তরসুরিরাও ওই ঘৃণ্য দালালদের বধ করবে। আমাদের যুক্তির চেতনা, সত্যাগ্রহী
স্পৃহায় ধ্বংস হবে তারা যারা বিতর্ককে কাজে লাগায় মিথ্যাকে বিজয়ী করতে।
নিজেদের দোষ মিথ্যা ভাবে অন্যের ঘাড়ে দেয়ার মানসিকতা যাদের থাকে তারা
সমাজের কিট। আমাদের অসাম্প্রদায়িক শক্তি আর বিতর্কের প্রেরণাই হবে কীটনাশক।
বিতর্কের জয় হোক, জয়তু জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন। জয় বাংলা।
নতুন
কিছু বলবো না। তবে উপলব্ধিটা হলো বর্তমান বিতার্কিকদের পড়াশোনার মান
একেবারে কমে গেছে। তাই বাকপটুতা থাকলেও বিষয় সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অনেক কম। এটা
মোটেই কাম্য নয়। ৫/৬ তা ডিবেট করলেই ৫ মিনিট অবিচ্ছিন্ন ভাবে কথা বলা
যায়।তবে তাতেই একজন বিতার্কিকের পারদর্শিতার সবটুকু হয়ে যায় না। আমি জানিনা
প্রতিযোগিতা বাদে কতজন বিতার্কিক তাদের রুমে বাংলা বা ইংরেজি পত্রিকা
কিংবা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স রাখেন। আপনাদের ল্যাপটপ ভিত্তিক ইন্টারনেট যুক্ত
জ্ঞান অন্বেষণ বিতর্কে কতটুকু কাজে লাগছে কিংবা আপনারা কাজে লাগাচ্ছেন
কিনা আমি সন্দিহান।
শুরু থেকেই বিতার্কিকদের বারোয়ারী বিতর্কের
প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেছি। অথচ আপনারা বর্তমান বিতার্কিকরা বারোয়ারীকে কেউ
হয়তো বিতর্কই মনে করেন না, আবার কারো কারো একটা কথা স্টাইলের মতো হয়ে গেছে
"ভাই, বারোয়ারী আমার ঠিক আসে না"। অবাক লাগে সত্যি। আর বার বার বিতর্কে
আপনাদের পরাজয়গুলো হজম করতে কষ্ট হচ্ছে। ৩ বছর আগে যেই টীম আমাদের কাছে ১০০
মার্কের ব্যবধানে হারতো, আজ অনবরত তারা আপনাদের সাথে জয়লাভ করে যাচ্ছে।
আপনারা বিতার্কিক। আমার কথায় ভুল হলে মার্জনা করবেন। শুধু মাত্র ব্যাচের
প্রাধান্য দিতে হবে বলে সিনিয়রদের নিয়ে টীম গঠন, নয়তো তারা সংগঠনের প্রতি
রুষ্ট হবে- এই ভীতি থাকলে সংগঠন চালানোর আর কি দরকার। এতে সাংগঠনিক ভিত
দুর্বল হয়ে যায়। সংগঠন হয়ে যায় ব্যাক্তিস্বার্থ কেন্দ্রিক। মাফ চাই আপনাদের
কাছে। প্লিজ, কাউকে অযাচিত মূল্যায়ন করে , তোষামোদ করে সংগঠন চালানোর চেয়ে
এই সংগঠন ছেঁড়ে দিন অথবা শক্ত হাতে সব হঠকারিতা দমন করেন।
তাহলে সংগঠন বাঁচবে, বিতর্ক বাঁচবে।বিতর্কের জয় হোক। জয় বাংলা।
সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩
কোটা প্রথা-শোষণ-সংগ্রাম
কোটা
প্রথা বাতিলের আন্দোলনটা আসলে আমাদের চিত্তের সংগ্রামী চেতনা,ইতিহাসের
অনির্বাণ দৃষ্টান্ত। আসলে আমাদের ইতিহাসের সব আন্দোলনই এই কোটার বিপরীতে।
হয়তো আজকের কোটাটি চাকরির অধিকার সম্বন্ধীয়, আর ১৮৫৭, ১৯০৫, ১৯২৬, ১৯৪৭,
১৯৫২, ১৯৬২,১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০০৭ সব গুলো সংগ্রাম ছিল সুবিধাবাদীদের
বিরুদ্ধে , অস্বাভাবিক বৈষম্মের বিরুদ্ধে, অধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে।
প্রশ্নটা হলো-সরকার ব্রিটিশ, পাকিস্তানী বা বাংলাদেশী যত রকমেরই হোক না
কেন স্বার্থ-ক্ষমতা-শোষণ-গদি এসব কিন্তু যুগ যুগ ধরেই অভিন্ন।তাই আমাদের
মতো নিপীড়িতের স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠায় বার বার সংগ্রামী হয়ে ওঠাটাও
ঐতিহাসিক শৌর্য। জানিনা এখন আবার আমরা সবাই কেন অনেকটা নিভে নিভে গেলাম।
মিডিয়াতেও এখন আর এ বিষয় নিয়ে কোনো সারা-শব্দ নেই।
ঘুরে দাঁড়ানোটা
সময়ের দাবী। যদি এখন কেউ আবার ফলাফল শিটে নিজের নাম খুঁজে পেয়ে ঐতিহাসিক
মিরজাফরিও বা গোলাম আজমিও চেতনায় ভর করে আন্দোলনের প্রকৃত দাবী ভুলে গিয়ে
রিটেনের প্রিপারেসনের নামে আত্মস্বার্থে নিমগ্ন হন তবে আমাদের বিবেক মুখ
থুবড়ে পরবে। আমাদের চেতনার মেরুদণ্ড ভঙ্গুর হয়ে যাবে।
অপেক্ষাকৃত
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা আবশ্যক সত্যি, তবে সেটা ৫৫ঃ৪৫ নয় অথবা
প্রহসনের ৫০ঃ ৫০ ও নয়। যদি পিছিয়ে পরার বিচারেই চিন্তা করতে হয় তবে তো
আমাদের ১০০% কোটা থাকা উচিৎ ছিল। যুগ যুগ ধরেই আমরা পশ্চাৎপদ। কোটা সিস্টেম
কখনই ৩০% এর বেশী থাকতে পারে না। বর্তমানে যারা কোটা সুবিধায় আছেন তারা
অবশ্যই সেটা পাবার অধিকার রাখেন তবে
অনুপাতটা কমানো জুরুরি।
আমরা যারা বৈষম্মের পতন চাই তাদের ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে একসুত্রে থেকে
আত্ম অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মিছিলে সমস্বরে শ্লোগান তোলা, হাতে হাত
রেখে সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গিতে অবিচল থাকাটা আবশ্যক।আমরা আশ্বাস দেবো
ভবিষ্যতকে-
" পরশু ভোর ঠিক আসবে- সেই আশাবাদ তুমি ভুলনা"
বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৩
জেইউডিওঃ আমার অস্তিত্ব
একটা
সংগঠনকে গড়ার চেয়ে চালিয়ে নেয়া কঠিন। স্বীয় কৃতিত্ব একারনেই দাবী করবো
আমার জেইউডিও আমার হাতে গড়া না হলেও হীম, আমি, মেহেদী, সিউল, তানজিল , সুজন
ভাই এই জেইউডিও কে এগিয়ে নিয়েছি সাধ্য মতো।তবে এর জন্য কোনো ফিড ব্যাক চাই
নি, চাই না। এখনো আত্মপ্রত্যয় আছে বলে বলছি- আমার জেইউডিও থাকবে সেই দিন
পর্যন্ত যেইদিন হয়তো আমাদের অস্থিমজ্জা মিশে যাবে মাটির মাঝে। ভালোবাসার
প্রগাঢ়তা থেকে স্পর্ধা করছি এইভাবে 'নিমেষে ধ্বংস করবো তাকে যে আমার
সংগঠনকে ধ্বংস করতে চাইবে'।
আমি জানি, তোমরা যারা এখন আছো তারা
হয়তো আমার চেয়েও সংগঠনকে বেশী ভালোবাসো। তোমাদের ভালোবাসা না থাকলে হয়তো
অনেক আগেই গতিতে মন্থরতা আসতো। কোনো অনুযোগ নয় আজ। একটা দাবী তোমাদের
প্রতি- প্লিজ ফিরিয়ে আনোসেই আড্ডা, সেই সার্কেল, সেই মায়াময়তা।হোক না
মুখগুলি ভিন্ন। সময়ের ঢেউয়ে হারিয়ে গেলেও তোমাদের মুখ দেখে নিজের অতীতকে
হাতড়ে বেড়াতে পারবো। প্লিজ, আমার তোমরা একপ্রাণ হও। আমাদের পরিবাদের সবাই
আমার প্রানোচ্ছাসে ভাসবো।
আমি জানি, আমরা পারবো। জেইউডিও আমাদের
অস্তিত্বের ভিত। আমাদের পারতেই হবে। মননের তানে, ভালোবাসার টানে। আবার জমবে
মেলা। জমানোর ভার তোমাদের দিলাম। আমার বিশ্বাস তোমরা পারবেই। ২৯ থেকে ৪২
সবাই এক পরিবারের বন্ধনে বাঁচবো আজীবন।
জেইউডিও দীর্ঘজীবী হোক, জয় হোক বিতর্কের। জয় বাংলা।
শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩
অনুভূতির নুড়িগুলো..
বিতর্ক
শব্দটা শুনলেই আগে কেমন যেন ভয়ে হাত পা কেঁপে উঠত। সবার সামনে দাড়িয়ে ২
মিনিট কথা বললে যতটা নার্ভাস হয়ে ঘাম ঝরবে বলে মনে হতো, মনে হয় খ্যাতিমান
কোনো কুস্তীগিরের সাথে কুস্তী করতে গেলেও এতোটা নার্ভাস হোতাম না। আজ আমি
গর্বিত হয়ে উচ্চারণ করি- আমি একজন বিতারকিক। আমার কণ্ঠে যুক্তির সুর তুলেছে
জেইউডিও।আমার বধির সত্ত্বাকে যুক্তির ঝংকার শুনিয়েছে জেইউডিও। আমার
ম্রিয়মাণ পদদলিত স্বপ্নগুলোকে ইচ্ছের ডানায় ভর করে উদার আকাশে ওড়ার প্রেরণা
দিয়েছে জেইউডিও।
মামুন ভাই, কেমন যেন বেশ অহংকারী মানুষ লাগতো
জাকে। এত বেশি ভাব মারতো! ভয়ানক তুখোড় তার্কিক। কখনো ধারে কাছে ঘেঁষতে পারব
কিনা দ্বিধা ছিল, তার মতো তার্কিক হওয়ার স্বপ্ন তো অনেক দূরের কথা! হুট
করে কখন যেন "দেখি কতো সুখি দম্পতী হাসিমুখে বাস করে শহরের ম্যানশন গুলোয়,
আর হাসি মাখা এ শহরই আমাকে ছাড়িয়ে ঘর নামিয়েছে পথের ধুলোয়" গানটি গাইতে
গাইতে আমার কাঁধে হাত রেখে নিজের ভাইয়ের মতো আপন করে নিলো আমায় এই মানুষটি।
মামুন ভাই, আমার আইকন। অনেক প্রশংসা শুনেছি অনেকের কাছে নিজের বিতর্ক
নিয়ে। সবচেয়ে প্রেরণা পেয়েছি তখন যখন এই মানুষটি আমার বিতর্ক নিয়ে কোনো কথা
বলেছেন। আমার স্পৃহার আধার মামুন ভাই।
খুব ছোটখাটো সুদরসন তবে
পোংটা টাইপের একটা ছেলেকে মাঝে মাঝে দেখতাম হলে। টিটি খেলতে খেলতে এমন কিছু
এক্সপ্রেশন দিত মেজাজ ব্যাপক খারাপ হতো। দেখে বোঝাই যেতনা যে এই মানুষটা
নাকি আমাদের সিনিয়র।কখন যেন এই মানুষটি ক্যাম্পাসে আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ
হয়ে গেলো। আমার বিতর্কের সরাসরি শিক্ষক, বিতর্কের প্রতিটি যুক্তি, সব্দ,
অক্ষর জার কাছ থেকে আমার শেখা- অপু ভাই। আমার ক্যাম্পাস লাইফের গার্জিয়ান।
প্রথন যখন বাইরে বিতর্ক করতে জেতাম, এই মানুষটির কাছে হাতে কলমে প্রতিটি
বিতর্কের আগের দিন ধর্না ধরতাম। আমার বিতর্কের অ আ আমি অপু ভাইয়ের কাছ থেকে
শিখেছি। কতো খুনসুটি, কতো অভিমান, কতো হাসি, কতো বিরাগ, তাসের আসরে
উল্লাস, কখনো বা ভয়ানক মন কষাকষি। এই নিয়ে ছিল আমার ভুবন।
প্রোগ্রাম শেশে বটতলায় খাওয়া শেশ করে গান গাইতে গাইতে যখন হলে ফিরতাম এমনি
একদিনে আবিষ্কার করলাম মুস্তাফিজ ভাই( মুস্তা বন্ধু) কি জিনিস। আগে ওনাকে
বেশ কনজারভেটিভ মনে করতাম। কখন যেন জেইউডিওই তার সাথে আমার আত্মিক বন্ধনটা
অটুট করে দিয়েছে। সাংগঠনিক ভাবে এই মানুষটি যখন জেইউডিও এর কর্ণধার, তখনই
আমি কার্যনির্বাহী কমিটিতে কাজ সুরু করি। মুস্তাফিজ ভাই, আমার সাংগঠনিক
গুরু।
রাজন দা কে তার ছাত্রাবস্থায় খুব কাছে থেকে পাইনি। তবে
জেইউডিও এর মাধ্যমে তার কাছ থেকে পেয়েছি অনাবিল স্নেহ, সাংগঠনিক
দিকনির্দেশনা। ব্যক্তিত্বে অবিচল রাজন দা ছিলেন সত্যিকার ভাবেই অনুকরণীয়।
আদনান ভাই। কিছুটা পাগল গোছের রাগি মানুষ। অথচ ঐ রাগের মধ্যে যে কতটা
প্রেরণা, স্নেহ, ভালোবাসা ছিল তা বলে বোঝাবার নয়। এক কথায় আমার কাছে মামুন
ভাই আর অপু ভাইয়ের যোগফল হলেন আদনান ভাই। অনুসরনিয় বিতারকিক।অনুকরণীয়
জ্ঞানের আধার।
সাইফ ভাই, যে মানুষটি আমার মতো হাজারো বিতারকিকের
কাছে বিতর্কের ব্রায়ান লারা। কখনো কোনো অহমিকার লেশ মাত্র কিছু তার মধ্যে
পাইনি। এরকম ভাল মানুষ এখনকার যুগে সত্যিই অনেক কম নয় প্রায় শূন্য।
হীম। আমার সভাপতি, হার হাত ধরে, জার কাঁধে কাধ মিলিয়ে ক্যাম্পাসে প্রথম
বিতর্কের সাথে তথা সংগঠনের সাথে জুক্ত হওয়া। সৃষ্টিশীলতায় ভাবতে শেখা।
সূর্যকে হাতের মুঠোয় ধরার স্পর্ধা। এমন অনেক দিন ছিল আমরা ২৪ ঘণ্টা একসাথে।
জানি তা আজ স্রেফ অতীত। গণিতের মতো জন্মান্ধকে জ্যোৎস্নার দৃশ্য দেখাবার
যুদ্ধে যার সহযোদ্ধা আমি। অনড় শ্রদ্ধায় কখনো দেবতা, নিদারুণ অভিমানে কখনোবা
অপদেবতা।আমার স্মৃতির আকাশের এক অবিনশ্বর নক্ষত্র হীম।
মেহেদী।
আমার শক্তি, আমার সহকর্মী, আমার সতীর্থ। যার সাথে ঝগড়াটা খুব বেশি হয়েছে,
আর জাকে ফীলটাও অনেক বেশি করেছি। অভিমানে কথা বন্ধ আবার জেইউডিওকে ভালোবেসে
হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাওয়া। আমার অভিমানের পেয়ালা, অনুযোগের গড়ল। আমার আধ-
খাওয়া সিগারেটের পার্টনার, আমার জেইউডিও পরিবারের পিঠাপিঠি ভাই, আমার
শক্তি, আমার যন্ত্রণা, আমার স্মৃতিকাতরতা মেহেদী।
আমার রুমমেট
সিউল। আমার আজীবনের সিগারেটের পার্টনার। আমার দুঃখ- বেদনার জমা রাখা থলে
সিউল। আমার ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম বন্ধু, যে আমাকে সবচেয়ে বেশি জানে,
আমাকে বোঝে, আমার উপলব্ধিতে যে চির অমলিন।গণিতের পাথুরে বুকে যুক্তির ফুল
ফোটানো কারিগর, আমার সহযোদ্ধা সিউল।
ইরতেজা। আমার সবচেয়ে প্রিয়
বিতারকিক, যার কাছে অনেক শিখেছি। যার সাথে বিতর্ক করাটা আমার বিতর্ক জীবনের
সর্বাধিক ভালো লাগা, জেইউডিও এর বিতর্কের প্রাণ এই মানুষটি।
মামুন
ভাই, রাজন দা, মুস্তাফিজ ভাই, অপু ভাই,বন্ধু সৈকত, সায়ের ভাই,আদনান ভাই রা
জেইউডিও এর যদিও প্রতিষ্ঠাতা তবে যাদের মাধ্যমে JUDO প্রাণ পেয়েছে হীম,
সিউল, মেহেদী, তাঞ্জিল, রাজীব, ইরতেজা,সুজন ভাই- এরা আমার সতীর্থ এ আমার
গর্ব।
আজ বাস্তবতার ভীরে মিশে গিয়ে আমাদের বৃত্তীয় বিন্দুগুলি
অনেক দূরে সরে গিয়েছে। আর কখনো ফিরে পাবনা আড্ডা মুখর, বিতর্কে ভরপুর সেই
দিনগুলি। আর ফিরে আসবে না হয়তো সেই চায়ের চুমুক, সেই গান, সেই ডায়াস, সেই
আধ-খাওয়া বেনসন। তবে আমার ক্ষুদ্র জীবনের প্রচ্ছদে সপ্তবর্ণে বর্ণীল থাকবে
এই স্মৃতি, এই মুখগুলি।
কি জানি আবার কি জম্বে মেলা, নাকি বিরুদ্ধ সময় আমাদের আর বেশি দূরে ঠেলে দেবে!
আমার জেইউডিও আমার প্রেরণার নাম, আমার বেদনার নাম, প্রেরণা তো আছেই, সেই
সাথে থাকুক না কিছু বেদনা। আমার মিল্ব সবাই। অনুজদের কাছে প্রত্যাশা- একটা
আড্ডা জমিয়ে আবার একটিবারের জন্য হলেও ফিরিয়ে এনো অতীতকে।
তোমাদের অনেক মিস করি, মিস করি আমার জেইউডিওকে। ভালো থাকো জেইউডিও
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)