জীবনের
মান স্রেফ যখন শুধুমাত্র গণনায় মুল্যায়িত। লাশের সংখ্যা কতো? কেউ একজন বলল
১৩০। আরেকজন বলল না,১৫০। পাশ থেকে আরেকজন বলল ওই একই কথা। ২০ টা হিসাবের
হেরফের তো খুব বড় কিছু না। অবাক লাগে। মৃত্যু আমাদের দেশে সবচেয়ে সহজলভ্য
প্রাপ্তি। একেকটা প্রাণের মৃত্যুর বিভীষিকা আজ আঙুলের কড়া গুনে "গভীর শোক
প্রকাশ", "লজ্জিত জাতি" এসব ভ্রান্তির ছলনাময় সান্তনার বানীতে বিপন্ন।
এই মানুষটির উপার্জনে গোটা একটা পরিবারের
ভবিষ্যৎ নিরভর করে, নিমেষে সে শামিল হয় মৃত্যু মিছিলে। কখনো আগুনে পুড়ে,
কখনো জলে ডুবে আবার কখনোবা ভবন ধ্বসে। ঝরে যাওয়া জীবনের দাম হয়তো কখনো মেলে
তথাকথিত অনুদানে। আর কতদিন! মৃত্যু অমোঘ সত্যি। তবে আমাদের দেশের সার্বিক
পরিস্থিতি এমন যে মৃত্যুকে আয়োজন করে নিয়ে আসা হয়। মৃত্যু তার
স্বেচ্ছাচারিতায় বেঁছে নেয় হাজারো প্রাণ। বিশেষকরে শ্রেণীহীন মানুষের
প্রাণের প্রতিই বেশী লোভাতুর দৃষ্টি মৃত্যুর।
স্বাভাবিক মৃত্যুর
নিশ্চয়তা আমাদের দেশে অনিশ্চিত। এই দায় কার!!!কে এই নিশ্চয়তা দেবে আর কোনো
তাজরিন গার্মেন্টস এ ঘটবে না অগ্নিকান্ড , ঝলসানো তৃপ্তির উন্মাদনায় মৃত্যু
গ্রাস করবে না একটিও প্রাণ। আর কোনো রানা প্লাজা ধ্বসবেনা । আর কোনো তাজা
প্রাণ মুহূর্তে শামিল হবে না লাশের মিছিলে।
"প্রতিটা জীবনকে বাঁচতে দিতে হবে, আর কোনো সকাল শুরু হবে না মৃত্যু-যন্ত্রণার আর্তনাদে"। এই স্বপ্ন হয়তো বিলাসিতা!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন